“বাজারদর বাড়ে, আয় বাড়ে না — রহস্যময় লিফট!”

বাংলাদেশের বর্তমান বাজারদর এখন এমন এক রহস্যময় লিফটের মতো—
যেটা উপরে উঠতেই চায়, নিচে নামতে চায় না!
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো—
এই লিফটে উঠার ভাড়া ঠিকই বাড়ছে,
কিন্তু মানুষের মাসিক আয় এখনও সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে হাঁপিয়ে উঠছে।
বাজারে ঢুকলেই এখন মনে হয়,
আপনি কি কাঁচা মরিচ কিনতে এসেছেন,
নাকি সোনা কিনতে এসেছেন —
বোঝা যায় না!
একসময় মা বলতেন — “বাজার থেকে কিছু সবজি নিয়ে আয়।”
এখন বলেন— “আগে দেখে আয়, বাজারে ঢোকার টাকা আছে তো?”
বাজারদর এত বেড়েছে যে—
অনেকে নাকি বাজারে যাওয়ার আগে
রক্তচাপ মাপিয়ে যাচ্ছেন!
কারণ লাউ বা কুমড়া দেখলে
এখন আর দরদ ওঠে না—
দর দেখে বরং চিনিতে ডুবে যাওয়া ডায়াবেটিসের রোগীর মতো
“শক” খেয়ে ফেলেন!
এর মধ্যে মানুষের আয়—
অবিকল দেশের সেই পুরোনো সেতুর মতো:
একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে,
শুধু মাঝে মাঝে একটু দুলে উঠছে।
আগে মানুষ বলত—
“টাকায় কি না পাওয়া যায়!”
এখন মানুষ বলে—
“টাকায় কি পাওয়া যায়— সেটা আগে টাকা দেখে বলতে হবে!”
পাড়া-মহল্লায় এখন যেটা সবচেয়ে বেশি শুনতে পাওয়া যায়—
“বাড়িওয়ালা ভাড়া বাড়িয়েছে”,
“বাজারদর বেড়েছে”,
“গ্যাস-বিল বেড়েছে”,
আর শেষে নি:শ্বাস ফেলে বলে—
“কিন্তু আমার বেতন… সে তো রোজার সময় চাঁদ দেখার মতো—
দেখলেই খুশি হতে হয়!”
এক বন্ধু আক্ষেপ করে বলল—
“আমার বেতন বাড়েনি, কিন্তু বাজারদর বাড়ছে—
এটা কেমন সম্পর্ক?”
আমি বললাম—
“এটা একতরফা প্রেমের মতো—
তুমি যতই চেষ্টা করো না কেন,
সামনের পক্ষের কোনো আগ্রহ নেই!”
মজার ব্যাপার হলো—
এই পরিস্থিতিতে মানুষও বেশ মানিয়ে নিতে শিখেছে।
আগে মানুষ সবজি কিনতে গিয়ে দরদাম করত,
এখন বাজারে গিয়ে শুধু
সবজিগুলোর দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফিরে আসে—
এটাই নাকি “দূর থেকে কেনাকাটা”!
শেষ কথাটা হলো—
বাজারদর আর মানুষের আয়—
দুইজন এখন একই রাস্তায় হাঁটছে ঠিকই,
কিন্তু বাজারদর উড়োজাহাজে,
আয় এখনো রিকশায়!
